জম্মু-কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন নগরী পহেলগামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনা সময়ে সময়ে ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। ভারত যেমন কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দায়ী করছে, তেমনি ভারতের অভ্যন্তরীণ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অনেকেই বলছে এটি মোদি সরকারের সাজানো নাটক। এসব আলোচনার মাঝেই এবার সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে কাশ্মীরী মুসলমানরা হিন্দু ধর্মালম্বী পর্যটকদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে। এবং বেশ কিছু ভারতীয় কাশ্মীরী হিন্দু ধর্মাবলম্বী সামাজিক মাধ্যমে পোষ্ট করে জানিয়েছেন পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে কাশ্মীরী মুসলমানরাও।
শিভাঙ্গী চৌধুরী নামের এক ভারতীয় সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘পাহেলগাঁওতে যেদিন জঙ্গি হামলা হয়, সেদিন কাশ্মীরিরা নিজের জীবনকে উপেক্ষা করে পর্যটক ্ তাদের সন্তানকে বাঁচিয়েছেন। পর্যটকদের বাঁচাতে দুজন প্রাণ দিয়েছেন, এইসব খবর মিডিয়া চ্যানেলে দেখতে পাবেন না। কারণ, ভারতীয় মিডিয়া চ্যানেল জঙ্গিদের মতনই চায় ভারতবর্ষের লোকদের ধর্মের নামে বিভাজন করতে।’
ভারতীয় এই নারীর পোষ্টটির পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও দেখা যায়, স্থানীয় কাশ্মীরী মুসলমানরা জীবন বাজি রেখে পর্যটকদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন। আর শিভাঙ্গী চৌধুরী নামের সেই নারীর দেওয়া তথ্যমতে দুজন কাশ্মীরী মুসলমানও পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, যা ভারতীয় কোন গণমাধ্যমেই উঠে আসেনি।
ভারতীয় গোদি মিডিয়াগুলোর কাজই তো এমন। ভারতে কোন হামলার ঘটনা ঘটলেই তার দায় চাপায় মুসলমানদের ওপর। ভারতীয় মিডিয়া কাশ্মীর হামলার বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করছে যে মনে হচ্ছে কাশ্মীরের হামলায় শুধুু হিন্দুদের প্রাণহানী হয়েছে আর যারা মেরেছে তারা মুসলিম। এখন প্রশ্ন হলো যদি তাই হয় তাহলে ভারতীয় এই নারীর তথ্যনুসারে তো হিন্দুদের বাঁঁচাতে উল্টো প্রাণ হারিয়েছে মুসলমানরা।প্রেমা যাদব নামের আরেক ভারতীয় সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও পোষ্ট করে ক্যাপশনে হিন্দিতে লিখেছেন, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘এই সেই কাশ্মীরী যে কয়েক ডজন মানুষকে পিঠে বহন করে বাঁচিয়েছিলো।’ আর তার পোষ্ট করা ভিডিওটিতেও দেখা যায় সেই মুসলিম যুবক একজন পর্যটককে রক্তাক্ত অবস্থায় পিঠে করে নিয়ে যাচ্ছেন।সম্প্রতি এই যুবকের পরিচয় মেলে ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআই এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে। জানা যায় এই যুবক স্থানীয় পহেলগামের বাসিন্দা শাল ফেরিওয়ালা। তার নাম সাজাদ আহমেদ, তিনি একজন মুসলমান। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটি মানবতা এবং সমগ্র কাশ্মীরের হত্যা। তারা (সন্ত্রাসীরা) আমাদের, কাশ্মীরিদের হত্যা করলে ভালো হত। এটি একটি কাপুরুষোচিত কাজ ছিল। এই প্রথম আমি এমন ঘটনা দেখলাম। পুরো কাশ্মীর হতবাক।”
এসব ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে স্পষ্ট যে পর্যটকদের বাাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাশ্মীরের স্থানীয় মুসলমানরাও। ভারতীয় মিডিয়া এসব তুলে না ধরলেও কিছু সচেতন ভারতীয় সত্য তুলে ধরছেন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। এছাড়া ২৮ বছর বয়সী মুসলিম এক ঘোড়া চালক, সৈয়দ আদিল হোসেন শাহ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিলো এর আগেই।
আপনার মতামত লিখুনঃ

Comments
Post a Comment