Skip to main content

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতাকে আটক করলো সেনা সদস্যরা

  লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় অভিযোগ চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। বিল্লাল হোসেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবদলের সিনিয়র সদস্য।লক্ষ্মীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে একটি একনলা এলজি অস্ত্র উদ্ধার করি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনার মতামত লিখুনঃ Countdown Timer

‘মার্চ ফর গাজা’‌ কর্মসূচিতে ঢুকে নাশকতা চালাতে পারে আ’লীগ, গোয়েন্দা তথ্যে আশঙ্কা

 



বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম যখন সকল রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সর্বস্তরের মানুষ এক কাতারে এসে ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে যাচ্ছেন তখন সেটাকে সামনে রেখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এক নতুন ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কর্মসূচি ‘মার্চ ফর গাজা’র সাথে মিল রেখে পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপনে দলবদ্ধভাবে ঢাকামুখী হচ্ছেন। দলটির আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই পদযাত্রায় ঢুকে নাশকতা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এক গোয়েন্দা তথ্য সামনে আসার পর পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


সাম্প্রতিক ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপনে দলবদ্ধভাবে রাজধানী ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করেছেন।তারা রাজধানীতে অস্থিরতা তৈরি কিংবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই তৎপরতা সরকারের নজরে আসার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ।জানা গেছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীতে একটি বড় আকারের শক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী। উদ্দেশ্য—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা। ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচির সুযোগে তারা সহজেই ঢাকা ঢুকে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এদিকে, এই পরিকল্পনার খবর গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয় প্রশাসনের ভেতরে। ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) থেকে সব থানায় বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আটটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা মানতে হবে।


এই নির্দেশনায় বলা হয়—সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, যাদের নামে মামলা আছে তাদের মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেপ্তার, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও নৌঘাটে নজরদারি জোরদার করা, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বে যুক্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় ঢাকামুখী যাত্রা প্রতিহত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানি ছড়ানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, অর্থ সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, এবং ভাড়ায় চালিত গাড়ি ও যাত্রীবাহী পরিবহনের ওপর নজরদারি বাড়ানো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই এই পরিকল্পনার তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।



 উল্লেখ, প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে ১২ এপ্রিল (শনিবার) বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে ‘মার্চ ফর গাজা’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে এই কর্মসূচিতে ঢুকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী নাশকতা চালাতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।


এর আগে, গত ৭ এপ্রিল সারা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশেও গাজা গণহত্যার প্রতিবাদে গ্লোবাল স্ট্রাইক পালিত হয়। এতে দেশব্যাপী ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল’ কর্মসূচিতে লাখো মানুষ রাজপথে নামে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দুয়েক জায়গায় কর্মসূচির বাইরে থেকে কাপড়ে মুখ বাধা কিছু লোক দোকানপাটে এসে ভাঙচুর করে ও মালামাল লুটে নেয়। বিভাগীয় এক শহরে একটি দোকানে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে এবং অপর একটি দোকান ভাঙচুর করে। দেশব্যাপী এ ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য আরও শত শত দোকান ও শো রুমে চললেও কেউ এসবে হাত দেয়নি। বিশেষ করে লুট হওয়া একটি দোকানের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিজে মিডিয়াকে বলেন, ‘ গ্লোবাল স্ট্রাইকের মিছিল থেকে দোকানে হামলা হয়নি। প্রোগ্রাম শেষে সন্ধ্যা ৬টা সাড়ে ছয় টার দিকে মুখবাধা একদল লোক এসে দোকান ভাঙচুর ও লুট করে। পুলিশ জড়িতদের অনেককে গ্রেফতারও করেছে, যাদের কেউই কোনো ধর্মীয় সংগঠনের লোক নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইমেজ বিনষ্ট করতে এই নাশকতার পেছনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি

  ‎উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক কর্মশালায় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠল শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) কো-অর্ডিনেটর। ‎ ‎ ‎রংপুর বিভাগে দুই দিনের সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় সকালে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ এসময় প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী সঞ্চালনা সময় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ‎এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি জানিয়েছেন এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে, ফ্যাসিবাদ আমরা মনে করি না চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের অনেক রকম রূপ থাকে। তার কিছু কিছু প্রত...

গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল, অবৈধ হচ্ছে ডাকসুর জিএস পদও

  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে এম. ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল হচ্ছে। সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তা সাময়িক বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ওই নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ হতে ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্...

ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

  ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তারফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণার প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ফরিদপুর-২-এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের মানুষ টানা কয়েকদিন মহাসড়ক অবরোধ করেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তৃতীয় দফায় সকাল-সন্ধ্যা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বলেন, সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের হাজারখানেক সদস্য মহাসড়কে টহল দেবে। কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা...