Skip to main content

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতাকে আটক করলো সেনা সদস্যরা

  লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় অভিযোগ চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। বিল্লাল হোসেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবদলের সিনিয়র সদস্য।লক্ষ্মীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে একটি একনলা এলজি অস্ত্র উদ্ধার করি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনার মতামত লিখুনঃ Countdown Timer

১৯৭৪ সালেই বাংলাদেশের কাছে মাফ চেয়েছিল পাকিস্তান!

 



দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর পক্ষ থেকে

বার্নার্ড ওয়েনরাব্ট এর বিশেষ প্রতিবেদন যা প্রকাশিত হয়েছিল ১১ এপ্রিল, ১৯৭৪ সালে সেখানে স্পষ্ট শিরোনামে বর্ণিত হয়েছে, বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইল পাকিস্তান ।


১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধ ও সহিংসতার জন্য ১০ এপ্রিল, ১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিল পাকিস্তান সরকার। এই ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকর্মীর যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ১০ এপ্রিল, ১৯৭৪ এর রাতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। চুক্তিতে পাকিস্তান সরকার ১৯৭১ সালে সংঘটিত যে কোনো অপরাধের জন্য নিন্দা ও গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন ।


পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো বাংলাদেশের জনগণকে অতীতের ভুলগুলো ক্ষমা করে পুনর্মিলনের পথে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অতীত ভুলে গিয়ে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিল ।

 পাকিস্তানের এই অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্তও নিয়েছিল। এই চুক্তির ফলে ৯৩,০০০ পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীকে দ্রুত তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হওয়ার কথা হয়েছিল, যার মধ্যে অভিযুক্ত ১৯৫ জন সেনাকর্মীও ছিল । ইতিমধ্যে ৮০,০০০-এর বেশি যুদ্ধবন্দী পাকিস্তানে ফিরে গিয়েছিল। একইভাবে পাকিস্তানে আটকে পড়া প্রায় ১.৭৫ থেকে ২ লাখ বাঙালিকেও বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছিল তখন ।


এই চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, বাংলাদেশে বসবাসরত বিহারি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ। প্রায় ৫ লাখ বিহারি, যারা নিজেদের পাকিস্তানি নাগরিক মনে করে, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল চুক্তিতে। পাকিস্তান সরকার চার ধরনের বিহারিকে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে – যাদের পশ্চিম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত, পাকিস্তানে পরিবার রয়েছে, সাবেক সরকারি কর্মচারী এবং যারা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সমর্থন করায় বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীনতায় ছিল । পাকিস্তান তখন ১ লাখ বিহারিকে গ্রহণ করলেও নতুন চুক্তিতে প্রত্যাখ্যানের কারণ জানানো এবং আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল ।


এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছিল , কারণ এটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের জন্য পাকিস্তানের প্রথম আনুষ্ঠানিক দায়স্বীকার। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের জটিল ইস্যুগুলোতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল । 

তবে অনেকেই পাকিস্তানের এই সীমিত দায়স্বীকার এবং বিচার প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের বিনিময়ে রাজনৈতিক শান্তি হিসেবে দেখছিলেন । বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের শিকার পরিবারগুলো এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে কঠিন সময় পার করেছিলেন বলে জানা গেছে। চুক্তির পূর্ণ বিবরণ তিন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল যেখানে এই ঐতিহাসিক সমঝোতার বিস্তারিত শর্তাবলি উল্লেখ করা হয়েছিল।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি

  ‎উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক কর্মশালায় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠল শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) কো-অর্ডিনেটর। ‎ ‎ ‎রংপুর বিভাগে দুই দিনের সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় সকালে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ এসময় প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী সঞ্চালনা সময় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ‎এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি জানিয়েছেন এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে, ফ্যাসিবাদ আমরা মনে করি না চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের অনেক রকম রূপ থাকে। তার কিছু কিছু প্রত...

গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল, অবৈধ হচ্ছে ডাকসুর জিএস পদও

  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে এম. ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল হচ্ছে। সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তা সাময়িক বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ওই নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ হতে ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্...

ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

  ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তারফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণার প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ফরিদপুর-২-এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের মানুষ টানা কয়েকদিন মহাসড়ক অবরোধ করেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তৃতীয় দফায় সকাল-সন্ধ্যা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বলেন, সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের হাজারখানেক সদস্য মহাসড়কে টহল দেবে। কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা...