তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই হাইড্রোজেনভিত্তিক ‘ক্লিন এনার্জি’ বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। সম্প্রতি চালানো এই অ-পারমাণবিক বিধ্বংসী হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষার বিষয়টি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে চায়না মর্নিং।
সংবাদ মাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা গবেষকরা সফলভাবে একটি অ-পারমাণবিক, হাইড্রোজেন-ভিত্তিক বিস্ফোরক যন্ত্রের নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এটি একটি শক্তিশালী রাসায়নিক চেইন প্রতিক্রিয়া বা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
বেইজিং এমন সময় এই শক্তি প্রদর্শন করলো যখন মার্কিন-চীন শুল্কযুদ্ধে সরগরম পুরো বিশ্ব। এই বোমার পরীক্ষার ফলে চাপ বাড়লো তাইওয়ানের। পাশাপাশি, একে আমেরিকার সামনে চিনা প্রেসিডেন্টের খোলা চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বোমা।
পরিবেশ বান্ধব কিন্তু ধ্বংসাত্মক
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ক্লিন এনার্জি ব্যবহার করে সামরিক শক্তিকে আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করেছে। এবার হাইড্রোজেনভিত্তিক বিস্ফোরক তৈরি করার মাধ্যমে চীন প্রমাণ করলো প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক যুগে পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবহার করা সম্ভব।
আর এ বিষয়টি মাথায় রেখে এমন বোমা তৈরির দিকে আরও অগ্রসর হচ্ছে বেইজিং। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির সেনাবাহিনীর জন্য ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রাইডের বাণিজ্যিক উৎপাদনও শুরু হয়েছে। এই পদার্থ প্রতি বছর এখন ১৫০ টন পর্যন্ত উৎপাদন করা সম্ভব বলে দাবি করেছে চীন। এর আগে কেবল ল্যাবেই তৈরি হতো ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রাইড।
এ ধরনের বোমা তৈরির কারণ
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া তাইওয়ানকে ঘিরে ভবিষ্যৎ সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই সমরাস্ত্র বাড়ানোর দিকে আরও বেশি ঝুঁকছে চীন। মূলত পরমাণু অস্ত্র ছাড়া কৌশলগত অবস্থান তৈরির অংশ হিসেবে এমন পরিকল্পনায় এগোচ্ছে চীন। তাছাড়া এ ধরনের বোমা তৈরি ও পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকে।
এই মাসেই চীন তাইওয়ান উপকূলে বড় পরিসরের যুদ্ধ মহড়া ও লাইভ ফায়ার ড্রিল চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ‘ভয় দেখানো কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, তারা তাইওয়ানের পাশে থাকবে। এই উত্তেজনার মধ্যেই চীন স্পষ্ট করে দিয়েছে— তারা শুধু পরমাণু নয়, যুদ্ধের আরও উন্নত বিকল্প কৌশলেও প্রস্তুত।
ধারণা করা হচ্ছে, হাইড্রোজেন বোমা দু’ভাবে ব্যবহার করতে পারবে পিএলএ। প্রথমত, এর সাহায্যে বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস ও শত্রুকে কোণঠাসা করে পিছু হঠতে বাধ্য করা যাবে। দ্বিতীয়ত, হাইড্রোজেন বোমার সাহায্যে সুনির্দিষ্ট একটি এলাকাকে পুরোপুরি ধ্বংস করার সুযোগ পাচ্ছে চীন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অত্যাধুনিক উচ্চ শক্তির অস্ত্রটিকে কী ভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা জানা যায়নি।
সূত্র: আনাদোলু, ইকোনমিক টাইমস ও চায়না মর্নিং

Comments
Post a Comment