Skip to main content

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতাকে আটক করলো সেনা সদস্যরা

  লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় অভিযোগ চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। বিল্লাল হোসেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবদলের সিনিয়র সদস্য।লক্ষ্মীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে একটি একনলা এলজি অস্ত্র উদ্ধার করি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনার মতামত লিখুনঃ Countdown Timer

মুক্তিযুদ্ধের পর ভারতের লুটপাট! লুটের সম্পদ ফিরিয়ে দাও দিল্লি

 



“লুটের সম্পদ ফিরিয়ে দাও দিল্লি” শীর্ষক এক উপসম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পুনরুত্থান এবং ভারতের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। এতে তুলে ধরা হয়, কিভাবে শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশ কার্যত দিল্লির পররাষ্ট্রনীতির অনুসারী হয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের প্রক্সি রাষ্ট্রে পরিণত হয়।



এদিকে শেখ হাসিনার শাসনামলে নেপাল ও ভুটানের মতো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতির অভাব বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে তাঁর সরকারের পতনের পর দেশটি একটি স্বাধীন ও সোজাসাপ্টা পররাষ্ট্রনীতির পথে হাঁটতে শুরু করেছে—যা ভারত সহ্য করতে পারছে না।


প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের চীন সফর এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে জাতিসংঘে বৈঠকের পর ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একধরনের প্রচারযুদ্ধ শুরু হয়। ভারতের মিডিয়া দাবি করে, বাংলাদেশ তথাকথিত ‘লক্ষ্মণ রেখা’ অতিক্রম করেছে।


এ পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলসহ নানা রকম চাপ প্রয়োগ শুরু হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সেই চাপের মুখে মাথা নত না করে বরং পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে অগ্রসর হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় পর ঢাকায় দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কাছে অবিভাজিত সম্পদের হিস্যা চাওয়া হয়।



এই প্রসঙ্গে আবার সামনে এসেছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ভারতের সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশ থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া বিপুল সম্পদের বিষয়টি—যা আজ পর্যন্ত ফেরত আসেনি এবং যার আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।


এই “লুটের সম্পদ”-এর মধ্যে ছিল:


বিপুল পরিমাণ সামরিক ও বেসামরিক যানবাহন

অস্ত্র ও গোলাবারুদ

রসদ সামগ্রী

নগদ অর্থ

সেনানিবাস ও সরকারি ভবন থেকে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক পণ্য, এমনকি রান্নাঘরের সামগ্রীও।

মুক্তিযোদ্ধা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী বীরবিক্রম তাঁর “এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য” বইয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তিনি দেখেছেন, কিভাবে ভারতীয় সেনারা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ক্রমাগত রসদ সরিয়ে নিচ্ছিল।



এমনকি ১৯৭২ সালে ব্রিগেডিয়ার মিশ্রো নামে এক ভারতীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফিল্ড কোর্ট মার্শাল হয়, যেখানে অভিযোগ ছিল তিনি ফ্রিজ, ক্রোকারিজ, আসবাবসহ সামরিক-বেসামরিক মালপত্র ট্রাকে করে ভারতে পাচার করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও এই পাচারের পক্ষে সাক্ষ্য দেন।


এই “লুটের সম্পদ”-এর দাবি এখন কূটনৈতিকভাবে ভারতের কাছে উত্থাপন করার উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।


তারা বলেন, ২০০৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে দিল্লি বাংলাদেশে একটি অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিজেই ভারত সফরে গিয়ে বলেন, “আমি ভারতকে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে যা যা দরকার তা যেন করে।” এমনকি নিজেকে “ভারতের দালাল” হিসেবে উপস্থাপন করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।



তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সীমান্তে খরচ কমেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে, এবং দুই দেশের নাগরিক চলাচল ও চাকরির সুযোগও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও একাধিকবার বলেছেন, “আমি ভারতকে যা দিয়েছি, তারা তা চিরদিন মনে রাখবে।”


কিন্তু এখন সেই অধ্যায় শেষ। বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ক্রমশ স্বাধীন হচ্ছে, এবং ভারত তা মানতে পারছে না বলেই একের পর এক চাপ প্রয়োগের কৌশল নিচ্ছে।


বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এখন সময় এসেছে কূটনৈতিক পর্যায়ে ভারতের কাছে ১৯৭১-পরবর্তী “লুটের সম্পদ” ফেরত চাওয়ার। বাংলাদেশের জনগণের কাছে এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক এবং নৈতিক দাবিও।


Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি

  ‎উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক কর্মশালায় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠল শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) কো-অর্ডিনেটর। ‎ ‎ ‎রংপুর বিভাগে দুই দিনের সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় সকালে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ এসময় প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী সঞ্চালনা সময় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ‎এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি জানিয়েছেন এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে, ফ্যাসিবাদ আমরা মনে করি না চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের অনেক রকম রূপ থাকে। তার কিছু কিছু প্রত...

গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল, অবৈধ হচ্ছে ডাকসুর জিএস পদও

  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে এম. ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল হচ্ছে। সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তা সাময়িক বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ওই নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ হতে ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্...

ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

  ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তারফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণার প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ফরিদপুর-২-এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের মানুষ টানা কয়েকদিন মহাসড়ক অবরোধ করেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তৃতীয় দফায় সকাল-সন্ধ্যা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বলেন, সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের হাজারখানেক সদস্য মহাসড়কে টহল দেবে। কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা...