Skip to main content

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতাকে আটক করলো সেনা সদস্যরা

  লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় অভিযোগ চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। বিল্লাল হোসেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবদলের সিনিয়র সদস্য।লক্ষ্মীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে একটি একনলা এলজি অস্ত্র উদ্ধার করি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনার মতামত লিখুনঃ Countdown Timer

শ্রীলঙ্কা ভারতের স্থলপথের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে

 



দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র—ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে প্রস্তাবিত স্থলপথ সংযোগ, যার মাধ্যমে পক প্রণালী পেরিয়ে একটি সেতু বা করিডোর নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছিল, তা আপাতত স্থগিত করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক কলম্বো সফরের সময় বিষয়টি অগ্রাধিকার পেলেও, শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে তারা বর্তমানে এই প্রকল্পে এগোতে প্রস্তুত নয়।


প্রস্তাবিত স্থল সংযোগটি আলোচনায় আসে ২০০২–২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সময়। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৩ সালে নয়াদিল্লি সফরের সময়ও বিষয়টি যৌথ বিবৃতিতে পুনরায় উঠে আসে। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা ডিসানায়েকের দিল্লি সফরে এটি এজেন্ডা থেকে বাদ পড়ে।


সাম্প্রতিক ভারত-শ্রীলঙ্কা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মোদি পক প্রণালীর ওপরে সেতু নির্মাণ, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং ত্রিনকমালেতে ১২০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এমনকি তিনি হেলিকপ্টার থেকে ‘রাম সেতু’ পর্যবেক্ষণ করেন—যা হিন্দু ধর্মীয় পুরাণে ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সংযোগ হিসেবে বিবেচিত।


তবে শ্রীলঙ্কার নীতিনির্ধারকেরা এই স্থলপথ পরিকল্পনার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক। কলম্বোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাবটি যদিও ভারত-শ্রীলঙ্কা বাণিজ্য ও পর্যটনের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে, তবুও পরিবেশগত ঝুঁকি, আর্থিক দায় এবং জাতীয় স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে এটি আপাতত গৃহীত নয়। মান্নার উপসাগরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণাগার, প্রবাল প্রাচীর, মাছের প্রজনন কেন্দ্র এবং পরিযায়ী পাখির আবাসস্থলসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল অঞ্চল এই সেতুর আওতায় পড়ে যাবে—যা শ্রীলঙ্কার পরিবেশবাদী মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা এখনও অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে সংগ্রাম করছে। 

বিশাল মূলধন ব্যয়ের এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে তাত্ত্বিক লাভ-ক্ষতির বিশ্লেষণ জরুরি। শ্রীলঙ্কার এক মন্ত্রিপরিষদ কর্মকর্তার মতে, “বিদেশি অর্থায়ন এবং জটিল কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়াও আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।”


এই স্থলপথ প্রকল্পটি ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ পরিকল্পনার অংশ, বিশেষ করে বিমসটেক কাঠামোর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যকে সামনে রেখে। ভারতীয় কৌশলবিদরা মনে করেন, স্থলপথটি বিমান এবং নৌপথের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হতে পারে এবং নেট-জিরো কার্বনের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে শ্রীলঙ্কার সংবেদনশীল সামুদ্রিক অঞ্চলজুড়ে যথাযথ পরিবেশগত মূল্যায়ন ও জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি।


শ্রীলঙ্কার স্থল সংযোগ নিয়ে অনীহা চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেও ইঙ্গিত করে, যারা বর্তমানে দেশটির বন্দর ও সামুদ্রিক অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ করছে। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা শ্রীলঙ্কার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং তাই এমন সংযোগ কেবল প্রযুক্তিগতভাবে নয়, রাজনৈতিকভাবেও চূড়ান্ত ঐক্যমতের ভিত্তিতে এগোতে হবে।তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো আশা রয়েছে যে ভবিষ্যতে পরিবেশ-বান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই মডেলে ফেরি সার্ভিস, সবুজ শিপিং করিডোর বা কম ক্ষতিকর বিমান সংযোগের মাধ্যমে সহযোগিতা গড়ে তোলা যাবে।


এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—সংযোগ কেবল সেতু বা রাস্তায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আস্থা, পরিবেশ সচেতনতা, অর্থনৈতিক ভারসাম্য এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিপক্বতার ওপরও নির্ভর করে। আপাতত, পক প্রণালীজুড়ে একটি স্থলসেতুর স্বপ্ন স্থগিত হয়েছে—তবে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা একেবারে নাকচ হয়ে যায়নি।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি

  ‎উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক কর্মশালায় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠল শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) কো-অর্ডিনেটর। ‎ ‎ ‎রংপুর বিভাগে দুই দিনের সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় সকালে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ এসময় প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী সঞ্চালনা সময় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ‎এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি জানিয়েছেন এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে, ফ্যাসিবাদ আমরা মনে করি না চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের অনেক রকম রূপ থাকে। তার কিছু কিছু প্রত...

গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল, অবৈধ হচ্ছে ডাকসুর জিএস পদও

  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে এম. ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল হচ্ছে। সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তা সাময়িক বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ওই নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ হতে ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্...

ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

  ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তারফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণার প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ফরিদপুর-২-এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের মানুষ টানা কয়েকদিন মহাসড়ক অবরোধ করেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তৃতীয় দফায় সকাল-সন্ধ্যা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বলেন, সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের হাজারখানেক সদস্য মহাসড়কে টহল দেবে। কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা...