Skip to main content

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতাকে আটক করলো সেনা সদস্যরা

  লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় অভিযোগ চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। বিল্লাল হোসেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবদলের সিনিয়র সদস্য।লক্ষ্মীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে একটি একনলা এলজি অস্ত্র উদ্ধার করি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনার মতামত লিখুনঃ Countdown Timer

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল জামায়াত

 



বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল জামায়াত

স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যে দলগুলো সবচেয়ে বেশি দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল,তাদের মধ্যে ওপরের দিকেই থাকবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম। গেল বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দলটি দ্রুতই প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেয়েছে। এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘ নিষ্পেষণের পর দলটি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানও তৈরি করেছে। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে দ্য ডিপ্লোম্যাট।


স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জামায়াত এখন বাংলাদেশের ক্ষমতাধারী গোষ্ঠীর একটি হয়ে উঠেছে। দলটির সদস্যরা বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের জায়গায় চলে এসেছে।


জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ছিল বিএনপি। তাদেরকে ছেড়ে এখন জামায়াত হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে সমঝোত করে চলছে। জামায়াত এনসিপির এই মিত্রতা এখন বিএনপি থেকে আলাদা অবস্থান নিয়েছে দেশের রাজনীতিতে। সঙ্গে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডাকে নিজেদের অনুকূলে নিতে চাইছে।


গত মে মাসে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছিল, জামায়াত ও এনসিপি রাস্তায় নেমে এই দাবি তুলেছিল। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করে। হাসিনা সরকারের সময় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অনেককেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, আবার তাদের অনেকে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে গোলাম আযম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদী, কামারুজ্জামানসহ আরও অনেকেই ছিলেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিল বিগত সময়ে।২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়। এরপর নানা সময় নিষিদ্ধের দাবি উঠলেও এই দল আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হয় গেল বছরের আগস্টে এসে। এর ফলে অনেক জামায়াতকর্মী নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগে প্রবেশ করেন। কেউ কেউ সরকারি চাকরিতেও ঢুকে পড়েন।


জামায়াত একটি ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। স্থানীয় পর্যায়ে দলটি ধর্মীয়, সামাজিক, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে এমন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।


তবে সমালোচকরা বলেন, নারী ও সংখ্যালঘুদের সমঅধিকারে দলটির ওপর আস্থা রাখা যায় না মোটেও। শেষ কিছু দিনে জামায়াত নারী ও সংখ্যালঘুবান্ধব কিছু বক্তব্য দিয়েছে। তবে সমালোচকরা একে কৌশলগত রূপান্তর বলে মনে করছেন। তাদের অভিমত, দলটিতে মৌলিক আদর্শগত পরিবর্তন হয়নি।দলটির সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশনা অনুযায়ীই নীতি প্রণয়ন করা হবে।’ দলটির প্রশিক্ষণ সিলেবাস ও ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদুদীর বই বিদ্যমান। মওদুদীকে অনেকে চরমপন্থী মনে করেন। তবে কিছু গবেষক বলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দমননীতি প্রেক্ষাপটে তার চিন্তাভাবনা বোঝা উচিত।


বর্তমানে অনলাইন কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছে জামায়াত। বিএনপিবিরোধী বক্তব্যকেও মূলধারায় আনতে পেরেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দলটি তাদের পরিচয় গোপন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


সম্প্রতি সেখানে জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতসম্পৃক্ত সংগঠনগুলো সেখানে। তাতে সাবেক এক মার্কিন কূটনীতিকও অংশ নিয়েছেন। তবে তাদের অনেকেই জানতেন না এটি জামায়াতের আয়োজন।


এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির সমন্বয় করার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের উপস্থিতি কমে গেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতার দায়ে বহুদিন কলঙ্কিত হয়ে এসেছে জামায়াত। তবে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দেড় দশকে ‘৭১-এর চেতনা’র ব্যবহারের ফলে জামায়াতের এই বিষয়টি এখন সাধারণ ভোটারদের কাছে আগের মতো প্রভাব বিস্তার করছে না।এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সম্প্রতি বলেছেন, ‘কে ’৭১-এর পক্ষে আর কে বিপক্ষে- এই রাজনীতি দেশের জন্য পুরনো কাঠামো।’ জামায়াত কেবল এনসিপি নয়, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এমনকি হেফাজতে ইসলামসহ অন্য ইসলামি সংগঠনগুলোর সঙ্গেও জোট গড়ার চেষ্টা করছে। যার ফলে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতি ডানদিকে সরে যেতে পারে। এদিকে বিএনপি, যারা ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যডানপন্থি দল, তারা এখন অপেক্ষাকৃতভাবে মধ্যপন্থার দিকে সরে যাচ্ছে।


ভোটের রাজনীতিতে এককভাবে জামায়াত বড় শক্তি নয়। সে কারণে এনসিপির সঙ্গে থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে তারা।


এর পাশাপাশি তারা নির্বাচনী পদ্ধতিতে সংস্কারের দাবিও তুলছে। বর্তমান ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) পদ্ধতি বাদ দিয়ে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করছে। এতে ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। যদিও বিএনপি এই সংস্কারের বিপক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে।


বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের এই পুনরুত্থান শুধু দেশীয় রাজনীতিই নয়, বৈশ্বিক ইসলামি রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে জামায়াতসহ রক্ষণশীল শক্তিগুলোর ওপর তুরস্ক আর্থিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়িয়ে দিয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব আরও কমে পেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুনঃ

Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি

  ‎উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক কর্মশালায় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠল শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) কো-অর্ডিনেটর। ‎ ‎ ‎রংপুর বিভাগে দুই দিনের সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় সকালে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ এসময় প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী সঞ্চালনা সময় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ‎এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি জানিয়েছেন এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে, ফ্যাসিবাদ আমরা মনে করি না চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের অনেক রকম রূপ থাকে। তার কিছু কিছু প্রত...

গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল, অবৈধ হচ্ছে ডাকসুর জিএস পদও

  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে এম. ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল হচ্ছে। সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তা সাময়িক বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ওই নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ হতে ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্...

ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

  ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তারফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণার প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ফরিদপুর-২-এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের মানুষ টানা কয়েকদিন মহাসড়ক অবরোধ করেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তৃতীয় দফায় সকাল-সন্ধ্যা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বলেন, সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের হাজারখানেক সদস্য মহাসড়কে টহল দেবে। কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা...