Skip to main content

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতাকে আটক করলো সেনা সদস্যরা

  লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় অভিযোগ চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। বিল্লাল হোসেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবদলের সিনিয়র সদস্য।লক্ষ্মীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে একটি একনলা এলজি অস্ত্র উদ্ধার করি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনার মতামত লিখুনঃ Countdown Timer

অন্তত ৮ উপদেষ্টার দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ দিতে পারব: সাবেক সচিব সাত্তার

 



অন্তর্বর্তী সরকারের আটজন উপদেষ্টার ‘সীমাহীন দুর্নীতি’র প্রমাণ নিজের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, এই উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ হয় না, বদলিও হয় না।


শুক্রবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এক সেমিনারে এ অভিযোগ করেন অবসরপ্রাপ্ত এই সচিব। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বর্তমানে অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সভাপতি।


‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও আগামী দিনের জনপ্রশাসন’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে প্রশাসন ক্যাডারদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। বিকেল চারটায় সেমিনার শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। সেমিনারে প্রশাসন ক্যাডারের শীর্ষ পদের প্রায় সব কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।আব্দুস সাত্তার বলেন, কষ্ট লাগে একজন উপদেষ্টার এপিএসের অ্যাকাউন্টে ২০০ কোটি টাকা পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তিনি প্রশ্ন করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো একটি মন্ত্রণালয় নূরজাহান বেগম চালাতে পারেন? স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় একজন অনভিজ্ঞ উপদেষ্টা দিয়ে চালানো ঠিক হচ্ছে?ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছরে দুর্নীতি না কমে বরং অতীতের চেয়ে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, এক সহকারী কমিশনার (ভূমি) একটি স্কুলের জমির নামজারিতে ৩০ লাখ টাকা চেয়েছেন। ঢাকার আশপাশের একজন ইউএনও একটি কারখানার লে আউট পাশ করতে ২০ লাখ টাকা চেয়েছেন।


আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে বসি। গত বছর ৫ আগস্টের পর ওই অফিসে হাজার হাজার কর্মকর্তা–কর্মচারী ভিড় করছেন। আমার বস তারেক রহমান ডেকে বললেন, “কী হচ্ছে? এরা কারা। তাঁরা এখানে কী জন্য আসে।” আমি বলেছি, এরা সবাই বঞ্চিত। এরা গত ১৫ বছর হাসিনার আমলে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। হাসিনার পতনের পর উচ্ছ্বাসে ছুটে এসেছেন ন্যায়বিচার পেতে। উনি বলেছেন, “দলীয় অফিসে ইন–সার্ভিস কর্মকর্তারা আসা ভালো লক্ষণ নয়। আপনি তাদের অফিসে আসতে নিষেধ করে দেন।” আমি অফিসের গেটে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছি। ইন–সার্ভিস কোনো কর্মকর্তা অফিসে আসতে পারবেন না। যদি কোনো সমস্যা থাকে অফিসার্স ক্লাবে আসবেন।’তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। আমলাদের চরিত্র না হয় খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের রক্তের ওপর দিয়ে চেয়ারে বসা অন্তত আটজন উপদেষ্টার সীমাহীন দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ দিতে পারব। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আট উপদেষ্টার দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না’।


সেমিনারে সাড়ে তিন ঘণ্টার আলোচনায় বিগত সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নানা অনিয়ম–দুর্নীতির বিষয় উঠে আসে। কর্মকর্তারা কীভাবে বিগত সরকারের হাতিয়ার হয়ে কাজ করেছেন, সে প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা আগামীতে যাতে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ না করেন, সে আহ্বান করা হয়েছে।সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমান, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা লাসনা কবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক শাফিউল ইসলাম।


আরও বক্তব্য দেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, শহীদ আবু সাঈদের ভাই রমজান আলী, শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী এবং শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দ্বীপ্তি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরকারি কর্মকমিশনের সচিব সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুনঃ

Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি

  ‎উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক কর্মশালায় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠল শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) কো-অর্ডিনেটর। ‎ ‎ ‎রংপুর বিভাগে দুই দিনের সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় সকালে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ এসময় প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী সঞ্চালনা সময় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ‎এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি জানিয়েছেন এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে, ফ্যাসিবাদ আমরা মনে করি না চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের অনেক রকম রূপ থাকে। তার কিছু কিছু প্রত...

গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল, অবৈধ হচ্ছে ডাকসুর জিএস পদও

  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে এম. ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল হচ্ছে। সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তা সাময়িক বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ওই নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ হতে ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্...

ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

  ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তারফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণার প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ফরিদপুর-২-এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের মানুষ টানা কয়েকদিন মহাসড়ক অবরোধ করেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তৃতীয় দফায় সকাল-সন্ধ্যা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বলেন, সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের হাজারখানেক সদস্য মহাসড়কে টহল দেবে। কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা...