Skip to main content

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতাকে আটক করলো সেনা সদস্যরা

  লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় অভিযোগ চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। বিল্লাল হোসেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবদলের সিনিয়র সদস্য।লক্ষ্মীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে একটি একনলা এলজি অস্ত্র উদ্ধার করি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনার মতামত লিখুনঃ Countdown Timer

অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচন অবৈধ: ফরহাদ মজহার

 



অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচন অবৈধ: ফরহাদ মজহার

‘অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচন অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। ৮ আগস্ট বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এক লেখায় এমন মন্তব্য করেন। লেখাটি জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:


‘দুই হাজার চব্বিশ সালে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পার হয়ে এসেছি আমরা। জনগণ পুরানা গণবিরোধী সংবিধান ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করবার জন্য অকাতরে শহীদ হয়েছে, সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, নানানভাবে জুলুমের শিকার হয়েছে। দুই হাজার পঁচিশে এসে জুলাই ঘোষণাপত্রে ড. ইউনূস পুরানা সংবিধান ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রেখে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন। জনগণের এত আত্মত্যাগের নীট ফল কি? নির্বাচনের মাধ্যমে এস আলমসহ লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে পুনরায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। তথাকথিত ‘জুলাই ঘোষণা’র একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া গত ৫ তারিখেই আমি দিয়েছি (কমেন্টে দেখুন)।গণঅভ্যুত্থানের পরপরই গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার জন্য শেখ হাসিনার নিযুক্ত প্রেসিডেন্টকে বহাল রেখে এবং প্রেসিডেন্টের হাতে ফ্যাসিস্ট সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার গঠন হয়েছে। শুরু থেকেই গণঅভ্যুত্থান নস্যাৎ করবার এই প্রতিবিপ্লবী চাতুর্য সম্পর্কে আমি সাবধান করেছি। পুরানা সংবিধান বাতিল করে নতুন রাষ্ট্র গঠনের ভূমিকা যে সরকার পালন করে তাকেই বলা হয় ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’। মনে রাখা দরকার শেখ হাসিনার চরম গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট সংবিধানের অধীনে উপদেষ্টা সরকার গঠনের কোনো বিধান নাই। অন্তর্বর্তী সরকারের আইনী ও রাজনৈতিক বৈধতা গণঅভ্যুত্থান। অর্থাৎ জনগণ স্বয়ং। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাজির হওয়া জনগণের সার্বভৌম গাঠনিক ক্ষমতাই (Constituent Power) একমাত্র বৈধ ক্ষমতা। গণঅভ্যুত্থান কোনো আইন বা সংবিধান মেনে ঘটেনি বরং পুরানা আইন ও সংবিধান উৎখাত করে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করবার জন্যই জনগণ নিজেরা ফ্যাসিস্ট সংবিধান ও ব্যবস্থা উৎখাত করেছে।এর পরপরই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবিপ্লবী তৎপরতা শুরু হয়। আট আগস্টে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সংবিধান এবং তার গড়ে তোলা পুরা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য শেখ হাসিনার সংবিধান রক্ষা শপথ নিয়ে সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার গঠন করা হয়। অর্থাৎ আট তারিখে গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে একটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব ঘটানো হয়। ভূরাজনৈতিক হস্তক্ষেপও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৮ আগস্ট ২০২৪ জেফরি স্যাকস (Jaffrey Sachs) বলেন, আদতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে বাংলাদেশে শুধুমাত্র সরকার বদল (Regime Change) ঘটেছে। তাহলে সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকারের ভেতরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আরেকটি সরকার রয়েছে। এই ধরনের সরকারের পক্ষে আসিফ নজরুল সাফাইও গেয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করায় তিনি বলেছেন, “পৃথিবীতে কোন দেশে সরকারের ভেতর সরকার থাকে না? পৃথিবীর সব সরকারের ভেতরে সরকার থাকে, যাকে ‘কিচেন কেবিনেট’ (যাঁদের প্রভাব বেশি) বলা হয়”। (‘পৃথিবীর সব সরকারের ভেতরে সরকার থাকে’)আইন কিম্বা রাজনীতি, যে দিক থেকেই আমরা বিচার করি না কেন—গণঅভ্যুত্থানের পরে সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার গঠন বৈধ ছিল না। তাহলে অবৈধ সরকারের ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দেবারও কোনো রাজনৈতিক বা আইনী বৈধতা নাই। সেদিক থেকে ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ কী আছে বা কী নাই সেই তর্ক অর্থহীন। যদি গণঅভ্যুত্থান এই সরকারের আইনী বৈধতার ভিত্তি না হয়, অন্যদিকে যদি শেখ হাসিনার সংবিধানে যা নাই তেমন ‘অবৈধ’ সরকার গঠন করা হয়, তাহলে সে সরকারের কোন ঘোষণারই আইনী বা সাংবিধানিক বৈধতা নাই।


আপনার মতামত লিখুনঃ

Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি

  ‎উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক কর্মশালায় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠল শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) কো-অর্ডিনেটর। ‎ ‎ ‎রংপুর বিভাগে দুই দিনের সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় সকালে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ এসময় প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী সঞ্চালনা সময় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ‎এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি জানিয়েছেন এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে, ফ্যাসিবাদ আমরা মনে করি না চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের অনেক রকম রূপ থাকে। তার কিছু কিছু প্রত...

গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল, অবৈধ হচ্ছে ডাকসুর জিএস পদও

  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে এম. ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল হচ্ছে। সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তা সাময়িক বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ওই নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ হতে ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্...

ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

  ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তারফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণার প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ফরিদপুর-২-এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের মানুষ টানা কয়েকদিন মহাসড়ক অবরোধ করেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তৃতীয় দফায় সকাল-সন্ধ্যা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বলেন, সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের হাজারখানেক সদস্য মহাসড়কে টহল দেবে। কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা...