Skip to main content

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতাকে আটক করলো সেনা সদস্যরা

  লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় অভিযোগ চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। বিল্লাল হোসেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবদলের সিনিয়র সদস্য।লক্ষ্মীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে একটি একনলা এলজি অস্ত্র উদ্ধার করি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনার মতামত লিখুনঃ Countdown Timer

জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট বাঁধতে পারে যেসব ইসলামী দল

 




জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্যে তারা বেশ অগ্রসরও হয়েছে।তবে সম্প্রতি ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির জোট হচ্ছে, এমন গুঞ্জনে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো শক্তি বাড়ানোর জন্য ছোট ছোট দলগুলোকে কাছে টানার চেষ্টা করছে।


বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগে দুই মেরুতে অবস্থান করলেও, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের ঐক্যের সুর দেখা যাচ্ছে। আর এই কর্মকাণ্ডের অগ্রভাগে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে তারা একটি বৃহত্তর শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।


ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, দেশের বিশিষ্ট আলেমসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেছে।


এসব আলোচনায় মূলত ইসলামপন্থি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসলামপন্থি দলগুলোকে নিজেদের জোটে আনতে তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি। এরই মধ্যে দলের শীর্ষ নেতারা কয়েকটি ইসলামি দল ও সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিএনপির এসব তৎপরতা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে ইসলামি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া জামায়াতে ইসলামী শেষ পর্যন্ত কোন কোন দলকে পাশে পাবে, তা নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে একটি বৃহত্তর নির্বাচনী ঐক্য বা সমঝোতা করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। সেক্ষেত্রে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে তারা। ইতোমধ্যে উভয় দলের মধ্যে কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে। তবে এক সময় জামায়াতের কট্টর সমালোচক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী সমঝোতা প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, একসময় দলের শীর্ষ নেতারা জামায়াতকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিলেন।


এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের দাবি, দেশ, উম্মাহ ও ইসলামের স্বার্থে কোনো সমালোচনা বা প্রতিবন্ধকতা নির্বাচনী সমঝোতাকে ঠেকাতে পারবে না।


জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের ইসলামিক চিন্তাবিদ ও আলেম-ওলামা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে এবারের নির্বাচনে সব ইসলামী শক্তির মধ্যে একটা নির্বাচনী ঐক্য থাকতে হবে। সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের মধ্যে অচিরেই একটা সমঝোতা হতে যাচ্ছে -ইনশাআল্লাহ।


সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা হতে পারে, সেখানে আটটি ইসলামী দল থাকবে। সেগুলো হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত আন্দোলন।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের শক্তি ও বলয় বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মিত্রদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জামায়াতে ইসলামীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে। তারা নির্বাচনে মাঠের শক্তি বাড়াতে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কাজ করে আসছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন কোন রাজনৈতিক দল কার সঙ্গে যাবে, সেটি দেখার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। দীর্ঘ দেড় দশক পর জামায়াতে ইসলামী নির্বিঘ্নে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করে। একপর্যায়ে গত বছরের ১৫ আগস্ট থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে। এর মধ্যে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ১২ দলীয় জোট, জাকের পার্টি, লেবার পার্টি, খেলাফত মজলিস ও ফরায়েজী আন্দোলন উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে মাওলানা মামুনুল হক (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), আজিজুল হক ইসলামাবাদী (হেফাজতে ইসলাম), আব্দুল মাজেদ আতাহারী (বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি), আবু জাফর কাসেমী (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন একাংশ), জামিয়া মাদানিয়ার মুহতামিম মনিরুজ্জামান কাসেমীসহ বিভিন্ন আলেম ও মাদরাসাশিক্ষকের সঙ্গেও জামায়াতের আমির পৃথকভাবে বৈঠক ও মতবিনিময় করেন।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমাদের মধ্যে হয়তো বিভিন্ন মতবিরোধ আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ইসলামী সংগঠনগুলোকে এক জায়গায় দেখতে চায়; বিশেষ করে ভোটের মাঠে। সেক্ষেত্রে জামায়াতের মতো বড় শক্তি যদি আলাদা থাকে, তাহলে তো ঐক্য ফলপ্রসূ হবে না। এজন্য বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবনা আছে।


আপনার মতামত লিখুনঃ


Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি

  ‎উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক কর্মশালায় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠল শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) কো-অর্ডিনেটর। ‎ ‎ ‎রংপুর বিভাগে দুই দিনের সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় সকালে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ এসময় প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী সঞ্চালনা সময় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ‎এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি জানিয়েছেন এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে, ফ্যাসিবাদ আমরা মনে করি না চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের অনেক রকম রূপ থাকে। তার কিছু কিছু প্রত...

গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল, অবৈধ হচ্ছে ডাকসুর জিএস পদও

  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে এম. ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল হচ্ছে। সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তা সাময়িক বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ওই নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ হতে ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্...

ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

  ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তারফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণার প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ফরিদপুর-২-এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের মানুষ টানা কয়েকদিন মহাসড়ক অবরোধ করেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তৃতীয় দফায় সকাল-সন্ধ্যা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বলেন, সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের হাজারখানেক সদস্য মহাসড়কে টহল দেবে। কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা...