Skip to main content

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতাকে আটক করলো সেনা সদস্যরা

  লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় অভিযোগ চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। বিল্লাল হোসেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবদলের সিনিয়র সদস্য।লক্ষ্মীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. রাহাত খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে একটি একনলা এলজি অস্ত্র উদ্ধার করি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনার মতামত লিখুনঃ Countdown Timer

আবরার ফাহাদকে নিয়ে সারজিস আলমের আবেগঘন পোস্ট

 




বুয়েটে ছাত্রলীগের হাতে নিহত আবরার ফাহাদের সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টটি এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৭ হাজার লাইক এবং ৭৩ হাজার বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। এ প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি দীর্ঘ লেখা প্রকাশ করেছেন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।


সারজিস আলম ফেসবুক পোস্টে বলেন, আবরারের মৃত্যু তাকে সূরা বুরুজে বর্ণিত সেই বালকের মতো অমরত্ব দিয়েছে, যে নিজের ঈমান ও সত্যের প্রতি অবিচল থেকে রাজার অহংকার ভেঙে দিয়েছিল। কুরআনের সূরা বুরুজে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, যারা ঈমানের বিনিময়ে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়েছিল, তাদের জন্য বলা হয়েছে ‘জালিকাল ফাউযুল কাবির- আর এটাই মহাসাফল্য।’


সারজিস আলম আবরারের সঙ্গে সেই ঘটনার তুলনা টেনে বলেন, আবরার ছিল একেবারে সাধারণ একজন তরুণ। কিন্তু আজ সে এক আলোকবর্তিকা। তার মৃত্যু প্রমাণ করেছে, মৃত্যু মানেই শেষ নয় বরং জালিমের হাতে নিহত হওয়া মানেই ব্যর্থতা নয়। কখনও কখনও একটি মৃত্যু পুরো জাতিকে জাগিয়ে দিতে পারে।পাঠকদের জন্য সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।


বুয়েটে নিহত আবরার ফাহাদের সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টটা এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৭ হাজার লাইক এবং ৭৩ হাজার বার শেয়ার হয়েছে। এটা দেখে সূরাহ বুরুজের সেই বালক আর রাজার কথা মনে পড়ল। এক রাজা ছিল যে নিজেকে আল্লাহ দাবি করত। কেউ তার বিরোধিতা করলেই তাকে মেরে ফেলা হতো। এরমধ্যে এক বালক রাজাকে আল্লাহ মানতে অস্বীকার করল। রাজা নির্দেশ দিল বালককে হত্যা করার। কিন্তু এক অলৌকিক কারণে বালককে হত্যা করা যাচ্ছিল না। তাকে পাহাড় থেকে ফেলে, পানিতে ডুবিয়ে নানাভাবে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু রাজার সাঙ্গপাঙ্গরা প্রতিবারই ব্যর্থ। এরপর বালক রাজাকে একটা অদ্ভুত প্রস্তাব দিল। বালক বলল, আমি জানি আমাকে কীভাবে মারলে তুমি হত্যা করতে পারবে। যদি তুমি তীর নিয়ে সেটা বিসমিল্লাহ বলে ছুড়ো, তবে সেই তীরের আঘাতে আমার মৃত্যু হবে। তবে সেটা করতে হবে জনগণের সামনে। বালক জানত এতে সে মারা যাবে, কিন্তু এর মাধ্যমে তার লক্ষ্য ছিল রাজার নিজেকে আল্লাহ দাবি করার এই অহমকে মিথ্যা প্রমাণিত করা। লোক জড়ো হলো, রাজা বিসমিল্লাহ বলে তীর ছুড়ল, বালক মারা গেল। রাজা ভাবল, যাক আপদ দূর হলো।

কিন্তু এরপরেই ঘটল আসল ঘটনা।নিজেকে আল্লাহ দাবি করা রাজা বালককে হত্যা করতে পারল না, তাকে বিসমিল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর নামে তীর ছুড়তে হলো। এক আল্লাহর ইবাদাতে বিশ্বাসী বালকের মৃত্যুতে সেখানে উপস্থিত সমস্ত প্রজাদের মনে এটা গেঁথে গেল যে বালক সত্যের উপর ছিল, তাই উল্টো সবাই ঈমান এনে ফেলল। সবাই রাজাকে আল্লাহ মানতে অস্বীকার করে বসল। রাজার সেটাও সহ্য হলো না। বিশাল গর্ত খুড়ে সেখানে আগুন জ্বালানো হলো। বলা হলো যারা যারা ঈমান এনেছ তারা ঝাঁপ দাও! কী আশ্চর্য! হঠাৎ পাওয়া এই ঈমান তাদের কাছে এতটাই মূল্যবান হয়ে গেল যে, এর বিনিময়ে সবাই সেই আগুনে ঝাঁপ দিতেও পিছপা হলো না। এক মা তার দুধের বাচ্চা কোলে নিয়ে ঝাঁপ দিতে ইতস্তত করছিল, সেদিন সেই কোলের বাচ্চাও কথা বলে উঠেছিল। বলেছিল, মা আপনি এগিয়ে যান, আপনি হক্বের পথেই আছেন। কুরআনের সূরাহ বুরুজে আল্লাহ সেসব বান্দাদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা সেদিন ঈমানের বিনিময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়েছিল। আল্লাহ এই ঘটনাকে বলেছেন—

“জালিকাল ফাউযুল কাবির—আর এটাই মহাসাফল্য।” (সূরাহ বুরুজ, ৮৫: ১১)

আল্লাহ যেন আবরারকে জান্নাতে সূরাহ বুরুজের সেই বালকের প্রতিবেশী করেন।আবরার ফাহাদ আর দশজনের মতোই নিতান্ত একটা সাধারণ ছেলে ছিল মাত্র। কিন্তু সে আজ এক আলোকবর্তিকা। তার মৃত্যু তাকে সূরাহ বুরুজের সেই বালকের মতো অমর করে দিয়েছে।


তাই মৃত্যু মানেই শেষ নয়, জালিমের হাতে নিহত হওয়া মানেই ব্যর্থতা নয়। মাঝে মাঝে একটা মৃত্যুই একটা জাতিকে জাগিয়ে দিতে পারে। ইখলাসের সাথে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছোট একটা কাজও অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


আকাশের ওপারে একটা অনিন্দ্য সুন্দর বাড়ি। রাসূল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, এই বাড়িটি কার? সঙ্গি ফেরেশতা জবাব দিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই বাড়িটি সেই ব্যক্তির যে আল্লাহর পথে লড়াই করে নিহত হয়েছে। আমরা খুব করে চাই, আমাদের রব যেন আবরারকেও এরকম একটা বাড়ির মালিকানা দান করেন। লাল নীল হীরার বাড়ি.


আপনার মতামত লিখুনঃ

Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি

  ‎উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এক কর্মশালায় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠল শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) কো-অর্ডিনেটর। ‎ ‎ ‎রংপুর বিভাগে দুই দিনের সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) বিভাগীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় সকালে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ‎ ‎ এসময় প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর গোলাম রব্বানী সঞ্চালনা সময় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ‎এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের পর যদি এদের ছবি এখনো থাকে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি জানিয়েছেন এটি ভুলক্রমে হয়ে গেছে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে, ফ্যাসিবাদ আমরা মনে করি না চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের অনেক রকম রূপ থাকে। তার কিছু কিছু প্রত...

গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল, অবৈধ হচ্ছে ডাকসুর জিএস পদও

  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে এম. ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিল হচ্ছে। সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তা সাময়িক বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ওই নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ হতে ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্...

ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

  ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তারফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণার প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ফরিদপুর-২-এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের মানুষ টানা কয়েকদিন মহাসড়ক অবরোধ করেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তৃতীয় দফায় সকাল-সন্ধ্যা তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম সিদ্দিক মিয়াঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বলেন, সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বাইরে থেকে আসা সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের হাজারখানেক সদস্য মহাসড়কে টহল দেবে। কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা...